মিরপুর-পল্লবীতে ফের পোশাকশ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া: গ্রেপ্তার ৩৩
নিউজ ডেস্ক: ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকেরা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেছেন। পুলিশ বাধা দিলে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের ইটপাটকেলের জবাবে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল (কাঁদানে গ্যাস) ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার কিছু আগে মিরপুর সাড়ে ১১ এবং পল্লবী এলাকা থেকে হাজার হাজার পোশাকশ্রমিক একযোগে রাস্তায় নেমে এলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বিশাল মিছিল নিয়ে শ্রমিকেরা মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাঁদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার বিনীত আহ্বান জানান। এ নিয়ে কয়েক দফায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে শ্রমিকেরা জোরপূর্বক সড়ক আটকে দিলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে যায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। মূল সড়ক থেকে সরে গিয়ে শ্রমিকেরা আশপাশের গলিগুলোতে অবস্থান নেন এবং সেখান থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে পুনরায় ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জবাবে একের পর এক টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।
সকালের ব্যস্ত সময়ে মিরপুর-পল্লবী এলাকার প্রধান সড়কে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হওয়ায় ওই পথে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা। ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় থমথমে পরিবেশ ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, পোশাকশ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় গার্মেন্টস শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতায় লিপ্ত থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের ৩৩ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।
পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সাধারণ শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি শিল্প খাত বা রাজধানীজুড়ে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।