মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল

August 31, 2026 | Feature-2 |

নিউজ ডেস্ক: মাগুরার বহুল আলোচিত ৮ বছরের শিশু আছিয়া আক্তার হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের (৪৭) নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

আজ সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ আসামি হিটু শেখের দায়ের করা আপিল খারিজ করে এবং ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) স্বীকার করে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণাকালে আদালতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক উপস্থিত ছিলেন।

হাইকোর্টে বিচারিক রায় পিছানোর প্রেক্ষাপট

মামলাটিতে হাইকোর্টের শুনানি ও রায়ের চূড়ান্ত সময়সূচি:

আগের দিন ধার্য: গত ২৪ আগস্ট শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন: তবে নির্ধারিত দিনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জানানো হয় মামলাটিতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল নিজে শুনানি করবেন। রাষ্ট্রপক্ষের এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে আজ ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছিল।

চূড়ান্ত রায়: আজ নির্ধারিত দিনে হাইকোর্ট শুনানি পর্যালোচনা করে আসামির ফাঁসির রায় বহাল রেখে রায় দেন।

ঘটনার নির্মম ব্যাকগ্রাউন্ড ও চিকিৎসাধীন মৃত্যু

মামলা ও ঘটনার বিবরণী থেকে প্রাপ্ত তথ্য:

নৃশংস নির্যাতন: ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায় শিশু আছিয়া আক্তার। ওই রাতে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। নিহতের বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর নির্যাতন করেন।

সিএমএইচে মৃত্যু: আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে আছিয়াকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে শিশু আছিয়ার মৃত্যু হয়।

মামলা ও পুলিশি পদক্ষেপ: এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

ট্রাইব্যুনালের দ্রুততম বিচার ও রায়

মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভূতপূর্ব দ্রুততায় বিচার কাজ সম্পন্ন হয়:

অভিযোগপত্র ও সাক্ষ্যগ্রহণ: ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠন ও ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী দেন।

রেকর্ড সময় বিচার: মাত্র ১৩ কার্যদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে ১২ মে যুক্তিতর্ক শেষ হয়।

ট্রাইব্যুনালের রায়: ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। অপর তিন আসামি—সজীব শেখ, তার ছোট ভাই ও জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে নিম্ন আদালতের দণ্ডাদেশ অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য ২০২৫ সালের ২১ মে মামলার নথি হাইকোর্টে আসে এবং পেপারবুক প্রস্তুত শেষে বিশেষ বেঞ্চে শুনানির পর আজ আসামি হিটু শেখের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন দেশের উচ্চ আদালত।



Leave a Comment