১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক সংকট চরমে: ১১ দলীয় ঐক্যের আলটিমেটাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের
রাজনৈতিক প্রতিবেদক: সরকারের বিগত ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডকে ‘নজিরবিহীন অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রাজপথ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।
আজ রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ২৯ মিন্টো রোডস্থ মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি’র বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় আয়োজিত যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এমপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোটের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এই কর্মসূচির কথা জানান।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে ঘোষিত প্রধান প্রস্তাব ও ক্ষোভ
ব্রিফিংয়ে জোটের পক্ষ থেকে বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়:
লংমার্চের রূপরেখা: আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ শুরু হবে। শুরুর দিন রাজধানীতে বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং পথিমধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক বাধা আসলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের দাবি: সরকারের ৬ মাস অতিক্রম হলেও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সংবিধান সংস্কার না করে সরকার সংশোধনের পথ ধরলে পরিণাম ভয়াবহ হবে বলে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়।
১৮০ দিনের সার্বিক ব্যর্থতা: বিগত ১৮০ দিনে জ্বালানি সংকট, সার সংকট ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। এর বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চেয়েও অবনতি হয়েছে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহে নজিরবিহীন দলীয়করণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
পররাষ্ট্রনীতি ও পররাষ্ট্র সংকট: দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যক্রমের বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে সঠিক জবাবদিহি চাইতে বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নেতারা।
ক্যাম্পাসে দমনপীড়ন: দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও বিরোধী মতের ছাত্রনেতাদের ওপর দমনপীড়নের অভিযোগ আনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ নেতৃবৃন্দ
আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:
ডা. শফিকুর রহমান এমপি (বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত – সভাপতি), মো. নাহিদ ইসলাম এমপি (বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও আহ্বায়ক, এনসিপি), মাওলানা মামুনুল হক (আমীর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), মিয়া গোলাম পরওয়ার (সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান (চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ লেবার পার্টি), ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ (জেনারেল সেক্রেটারি, এবি পার্টি), মাওলানা জালাল উদ্দিন (মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (মুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি), ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান (সহসভাপতি, জাগপা), আনোয়ারুল ইসলাম চান (চেয়ারম্যান, বিডিপি), মাওলানা আব্দুল কাইয়্যুম (ভারপ্রাপ্ত আমীর, নেজামে ইসলাম পার্টি), মুফতি ফখরুল ইসলাম (মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন), সহ ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।