রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: আদালতে ১৬৪ ধারায় দুই আসামির রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর নগরীর কামালকাছনায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস।

গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক রফিকুল ইসলাম আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে রোববার বিকালেই কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী।

হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ ও কারণ

পুলিশ ও আসামিদের জবানবন্দির সূত্রে উদ্ধার করা নৃশংস ঘটনার বিবরণ:

ঘটনার সূত্রপাত: বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর ছাদসংলগ্ন ভবনের ছাদ দিয়ে আসামিরা তাঁর ছাদে প্রবেশ করে ইয়াবা সেবন করছিল। শেষ রাতে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ছাদে উঠে তাদের দেখে ফেললে বকাঝকা করেন।

পর পর চার হত্যা: মাদক সেবনের কথা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে আসামিরা প্রথমে গামছা পেঁচিয়ে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করে। শব্দ শুনে ধস্তাধস্তি থামাতে আসা তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং চিনে ফেলার ভয়ে ১২ বছরের ছোট ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও একে একে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারা।

ডাকাতি ও ছাদ দিয়ে চম্পট: হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা সেই বাসায় গোসল করে, পুনরায় ইয়াবা সেবন করে এবং ফ্রিজ থেকে শসা ও খেজুর খায়। এরপর ঘরে থাকা গহনা লুট করে সিদ্ধার্থ তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সোনা খাঁটি কিনা তা পরীক্ষা করে নেয়। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় চারপাশ ফাঁকা হলে তারা ছাদ দিয়ে সটকে পড়ে।

আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের বক্তব্য

কোতোয়ালি থানা পুলিশের (ওসি, তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি জানান, আসামিরা স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের বিচারকের খাসকামরায় হাজির করা হয়।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং অপরাধের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় আদালত আইনানুযায়ী প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।



Leave a Comment