৩ মিনিটের বক্তব্যে ৮১ বার ‘স্যার’ সম্বোধন: নেটদুনিয়ায় সমালোচনার মুখে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন

নিউজ ডেস্ক: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সভায় মাত্র তিন মিনিটের বক্তব্যে তাঁকে ৮১ বার ‘স্যার’ সম্বোধন করেছেন মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌস। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয় সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পটভূমি ও পরিসংখ্যান

মতবিনিময় সভায় ঘটে যাওয়া এই অস্বাভাবিক সম্বোধনের মূল চিত্র:

আয়োজনের প্রেক্ষাপট: জেলা প্রশাসনের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মন্ত্রী বক্তব্য শেষে উপস্থিত কর্মকর্তাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিলে কথা বলেন সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌস।

‘স্যার’ শব্দের গড় হিসাব: ডা. আইভী ফেরদৌসের ৩ মিনিটের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে মোট ৮১ বার ‘স্যার’ বলে ডাকেন। হিসাব অনুযায়ী তিনি গড়ে প্রতি ২ দশমিক ২২ সেকেন্ডে অন্তত একবার ‘স্যার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

অন্যান্য কর্মকর্তার বক্তব্য: একই সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান তাঁর প্রায় এক মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অন্তত ১০ বার ‘স্যার’ শব্দটি উচ্চারণ করেন।

উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া ও নেটদুনিয়ায় সমালোচনা

ভিডিওটি ছড়ানোর পর বিষয়টি প্রশাসনিক তোষামোদি নাকি স্বভাবজাত সৌজন্যতা—তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন:

দাপ্তরিক দৃষ্টিকটুতা: অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বলা দাপ্তরিক সংস্কৃতির অংশ হলেও তিন মিনিটে ৮১ বার বলাটা অস্বাভাবিক ও উপস্থিত সবার কাছেই বেশ দৃষ্টিকটু লেগেছে।

সামাজিক মাধ্যমে ট্রোল ও প্রশ্ন: বিষয়টি ফেসবুকে আসার পর নেটিজেনরা ক্ষোভ ও রসিকতা প্রকাশ করছেন। অনেকের প্রশ্ন, যেকোনো প্রশাসনিক বক্তব্যে কাজের মূল কথার চেয়ে তোষামোদিমূলক সম্বোধন কেন প্রাধান্য পাবে?

বক্তব্যের মূল বিষয়: সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাদক, জুয়া এবং বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কর্মকর্তাদের কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের কঠোর নির্দেশনা দেন।

সিভিল সার্জনের বক্তব্য মেলেনি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হলেও এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



Leave a Comment