নেপালে ভয়াবহ তুষারধসে ১৫ পর্বতারোহী শ্রমিকের মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হিমালয় কন্যা নেপালের মধ্যাঞ্চলে তুষারধসে চাপা পড়ে অন্তত ১৫ জন পর্বতারোহণ ও অভিযান কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। চীন সীমান্তের কাছাকাছি হিমলুং পর্বতের বেস ক্যাম্পে ঘটে যাওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারে দেশটির অভিজ্ঞ উদ্ধারকারী দল উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার স্থান ও সময়: নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেইন গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তুল সিং গুরুং জানান, নেপালের মধ্যাঞ্চলে চীন সীমান্তের সন্নিকটে অবস্থিত ৭,১২৬ মিটার (২৩,৩৩৫ ফুট) উঁচু ‘হিমলুং’ শিখরের বেস ক্যাম্পে গত রোববার ভোরে আকস্মিক এই তুষারধস ঘটে।
বিদেশি পর্বতারোহী মুক্ত, বলী কর্মীরা: পর্বত আরোহণের সুবিধার্থে সেখানে তাঁবু স্থাপন ও রশি টাঙানোর প্রস্তুতিমূলক কাজ করছিলেন নেপালি পথপ্রদর্শক ও কর্মচারীরা। সৌভাগ্যবশত, তুষারধসের সময় বিদেশি পর্বতারোহীদের দলটি সেই স্থানে তখনও পৌঁছাননি।
উদ্ধার কাজ ও নিখোঁজ বার্তা: অভিজ্ঞ গাইডসহ ১১ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল বেস ক্যাম্পে জমা হওয়া ৪ মিটারেরও বেশি গভীর বরফের স্তূপ সরিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ থাকা অপর কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের আশা না থাকায় অভিযান গুটিয়ে আনা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত দেহগুলো হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে।
নেপালের পর্বত ট্র্যাজেডির ইতিহাস: সাম্প্রতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৪ সালে মাউন্ট এভারেস্টে তুষারধসে ১৬ জন এবং ২০১৫ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে ১৮ জন নিহত হয়েছিলেন। বিশ্বসেরা ১৪টি উচ্চতম পর্বতের ৮টির অবস্থান নেপালে হওয়ায় দেশটি পর্বতারোহণ পর্যটনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে।