বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘাত: ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি
রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শাখা ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জের ধরে দুই পক্ষই একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রকার মিছিল, মিটিং ও সমাবেশের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি ও সার্বিক সহযোগিতা চাওয়া হয়।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ও হতাহত
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।
শিবিরের অভিযোগ, প্রদর্শনীতে তাঁদের দাবি অনুযায়ী ‘জুডিশিয়াল কিলিং’-এর শিকার দলীয় নেতাদের ছবি সরিয়ে নিতে বাধ্য করতে চান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও সংঘাতের আশঙ্কা
সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার উভয় সংগঠনই মুখোমুখি কর্মসূচির ঘোষণা দিলে নতুন করে সহিংসতার আতঙ্ক দেখা দেয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখা আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় লালবাগ চত্বর থেকে আবু সাঈদ চত্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। অন্যদিকে, রংপুর মহানগর ছাত্রদল বিকেল ৪টায় আবু সাঈদ চত্বর পার্কের মোড়ে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দেয়। একই স্থানে দুই সংগঠনের মুখোমুখি অবস্থানে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় দ্রুত জরুরি পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন।
প্রক্টরের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত) ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান নিশ্চিত করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা যথারীতি বহাল থাকবে। তবে ক্যাম্পাসের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোর স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের মিছিল, মিটিং ও সমাবেশের ওপর ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে।”