জুলাই জাদুঘর থেকে বিশেষ দেশকে খুশি করতে ইতিহাস গায়েব করা হয়েছে: জামায়াত আমীর
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত যুদ্ধ হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই; বরং এটি ছিল মূল যুদ্ধের প্রস্তুতি বা রিহার্সেল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
আজ রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘২৪-এর আন্দোলন ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি
বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা ও ফ্যাসিবাদের প্রভাব প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন:
চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি: ২৪-এর আন্দোলনে রাজপথে নেমে আসা মানুষগুলো এখনো সজাগ রয়েছে। মূল যুদ্ধের আগে যেমন বাহিনীর মহড়া ও কসরত প্রয়োজন হয়, ২৪-এর আন্দোলনটি ছিল ঠিক তেমনই এক রিহার্সেল।
পঙ্কিলতা বৃদ্ধির অভিযোগ: গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদের দীর্ঘদিনের তৈরি হওয়া আবর্জনা ও পঙ্কিলতা পরিষ্কার হওয়ার আশা থাকলেও বাস্তবে তা ঘটেনি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।
একই পথের অনুসরন: বিগত ১৫ বছরের শাসন ব্যবস্থার মতো বর্তমান সরকারও ‘ফ্যাসিবাদ, আয়নাঘর ও বিনা বিচারে হত্যার’ পথ অনুসরণ করছে দাবি করে তিনি বলেন, জনগণ কোনোভাবেই কাউকে আর ওই পথে হাঁটতে দেবে না।
জুলাই জাদুঘর ও ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ
জুলাই জাদুঘর থেকে ঐতিহাসিক উপাদান সরিয়ে ফেলার অভিযোগ তুলে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন:
স্মৃতিচিহ্ন গায়েব: একটি নির্দিষ্ট দেশকে খুশি করার উদ্দেশ্যে জুলাই জাদুঘর থেকে জাতির দুঃখের ঘটনা, সীমান্ত হত্যা (যেমন ফেলানী হত্যা) এবং বিরোধী দলগুলোর ওপর চলা নির্যাতনের বহু স্মৃতিচিহ্ন ও ছবি গায়েব করে ফেলা হয়েছে।
ইতিহাসের ধারাবাহিকতা লোপ: ১৯৪৭ পরবর্তী রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্নও সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
পাসপোর্টের অবস্থান: স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও ইতিহাস বিকৃতি এবং ভুল নীতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মানদণ্ড তথা পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক পর্যায়ে রয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।